বুধবার, ১ আগস্ট, ২০১৮

পুরাতন কাশন্দিঃ সাইদুর রহমান পায়েলের একমাত্র দোশ

পুরাতন কাশন্দিঃ সাইদুর রহমান পায়েলের একমাত্র দোশ



খবরের উৎসঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন খবরের কাগজ!



সাইদুর রহমান পায়েলের একমাত্র দোশ ছিল তার পেশাব চেপেছিল বলে সে বাস চালককে বাস থামানোর জন্য অনুরোধ করেছিল!
অনেকক্ষণ অনুরোধ করার পর অবশেষে বাস থামালো!
পেশাব করে বাসে উঠতে যাবে অমনি হাইস্পিডে বাস টান দিয়েছে...
তখনই মাথায় প্রচন্ড আঘাত পায় পায়েল আর নাক মুখ থেকে রক্তঝরতে থাকে! তখনই হাসপাতালে নিলে বাঁচত পায়েল!
কিন্তু তা না করে নদীতে ফেলে দেওয়া হল মুমূর্ষু পায়েলকে!

আমি এটাকে ইচ্ছাকৃত হত্যাকান্ডই মনে করছি!
অনেকবার বাস থামানোর অনুরোধ করায় ড্রাইভার বিরক্ত হয়েছিল, কিন্তু প্রকৃতির ডাক এর জন্য কাউকে কি দোষ দেওয়া যায়?
পেশাব করতে নামার সময়ই হয়ত ড্রাইভার তাকে শিক্ষা দেওয়ার কথা ভাবছিল, ইচ্ছাকৃত নাহলে থামা বাস এমন হটাৎ ফূল স্পীডে যায় কেমনে!
সম্ভবত সে আগে থেকেই বাস ফুলস্পীডে টান দেওয়ার জন্য প্রিপারেশন নিয়ে রেখেছিল!

আর রক্তাক্ত পায়েলকে বাঁচানোর চেষ্টা করার প্রয়োজনই পড়ত না যদি না তারা পায়েলকে এভাবে আঘাত করত!

পুরাতন কাশন্দি ঃ বেপরোয়া ড্রাইভিং!

পুরাতন কাশন্দি ঃ
বেপরোয়া ড্রাইভিং!



ঘটনা ২০১৫ সালের,
বান্দরবন থেকে বাসে ঢাকায় ফিরছি, জার্নি শুরুর দিকে ২-৩ ঘন্টা (চট্টগ্রাম পাস করার সময়) ভালই ট্রাফিক জ্যাম ছিল!
জ্যাম ছুটার পর থেকেই বাস ড্রাইভার হাই স্পিডে চালাতে শুরু করলেন! কখনো কখনো হাইস্পিডে ওভার টেক করতে লাগলেন! ডাইনে বায়ে থাকা গাড়িগুলো অল্পের জন্য ধাক্কা লাগছে না! মনে হচ্ছিল সাইড দিয়ে যাওয়া থ্রি হুইলার/হালকা/ছোট যান গুলো একটু স্পর্শ লাগলেই উড়ে যাবে আর ২৫-৩০গজ দূরে গিয়ে পড়বে!
বিপরীত থেকে আসা গাড়ী গুলো পলকের মত ক্ষুদ্র সময়ের কারনে মুখোমুখি সংঘর্ষ হওয়া থেকে মিস হচ্ছিল বলে মনে হচ্ছিল! "ড্রাইভার সুপার হিরোর মত সুক্ষ্ম ড্রাইভিং করে হাই স্পিডে দুর্ঘটনা এড়িয়ে যাচ্ছেন" এটার চেয়ে বরং "ড্রাইভার হাইস্পিডে চালিয়ে ইচ্ছাকৃত ভাবে দুর্ঘটনা ঘটিয়ে সবাইক মেরে ফেলতে চাইছে কিন্তু বিপরীত থেকে আসা ড্রাইভারের দক্ষতায় তা হচ্ছিল না" বলেই মনে হচ্ছিল!

যে কোনও দুর্ঘটনার পরেই বাসের ফিটনেস নিয়েই প্রশ্ন উঠে, কিন্তু যেটা আসল সমস্যা সেটা অর্থাৎ ড্রাইভারের বেপরোয়াপানা নিয়ে কেউই প্রশ্ন তুলে না! ব্রিজ বা ফ্লাই ওভারের তিন ফুট রেলিং ডিঙ্গিয়ে বাস খালে/নিচে পড়ে যাওয়ার মানে বাসগুলার যথেষ্ট ফিটনেস আছে! হিস্টোরি চ্যানেল বা ডিসকভারি চ্যানেলে সত্তর-আশি বছরের পুরানো জঙ ধরা টুকরোটুকরো হয়ে যাওয়া গাড়ি পূর্ণরূপে রি-স্টোর করে চালাতে দেখায়, আমাদের দেশের গাড়ি গুলা নিয়মিত ঠিকঠাক যত্ন নিলে কোনই সমস্যা হওয়ার কথা নয়!
আসলে আমাদের দেশের ড্রাইভারেরা এতটাই বাজে স্বভাবের যে তাদের ফ্রেশ ফ্যাক্টরি মেইড ব্রান্ড নিউ গাড়ি এনে দিলেও তারা বেপরোয়া গাড়ি চালিয়ে নিয়ন্ত্রন হারাবে, নয় নতুন গাড়ি আই'ল্যান্ডে/নদীতে নয় ক্ষেতে নামাবে, সাইদুর' পায়েলদের নদীতে ফেলে দিবে(যেটার সাথে ফিটনেসের কোনই সম্পর্ক নেই), নতুবা রাজপথে ড্র্যাগ রেস করতে গিয়ে মাসুম বাচ্চাদের থেঁতলে দিয়ে চলে যাবে!
তাই আগে প্রত্যেকটা ড্রাইভারের আগে ড্রাইভিংয়ের পূর্ণ যোগ্যতা ও সঠিক-সুস্থ্য মানসিকতা অর্জন করার প্রয়োজন!